ছাত্রলীগের গায়ে অপবাদ দিতে এজেন্টরা টাকাও ঢালছে ॥ জড়িতদের খোঁজে গোয়েন্দা বাহিনী
গাফফার খান চৌধুরী/বিপ্লব সরকার ॥ ছাত্রলীগের গায়ে মেয়েদের যৌন উৎপীড়নের মতো সামাজিক ব্যাধির অপবাদ দিয়ে সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা চলছে। নয়া এ কৌশল নিয়ে মাঠে রয়েছে সরকারবিরোধী একাধিক গোষ্ঠী। তারা এ ব্যাপারে প্রচুর অর্থও ঢালছে। সরকারকে নানাভাবে বিব্রত রাখতে রীতিমতো এজেন্ট নিয়োগ করেছে তারা। এজেন্টরা পরিকল্পিতভাবে মেয়েদের যৌন উৎপীড়ন করে যাচ্ছে। আর জনতার রোষানলে পড়া মাত্রই সরকারী দল বা অঙ্গসংগঠনের নাম পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করে কেটে পড়ার চেষ্টা করছে। আর এ সুযোগে জামায়াত-শিবির ইসলামের দোহাই দিয়ে নানা প্রপাগাণ্ডাও চালাচ্ছে। ইসলামের নামে মসজিদে মসজিদে নানা অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। যৌন উৎপীড়নের ৰেত্রে মাদক ও কর্মহীনতা বড় কারণ হিসাবে কাজ করছে। সরকারকে বিব্রত করার এমন হীন চেষ্টার সঙ্গে জড়িতদের খোঁজে বের করার চেষ্টা করছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী উত্ত্যক্ত করার ঘটনায় একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ ছাত্রকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একাধিক গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ বিপুল জনসমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করে। এরপর ছাত্রলীগ নামধারী নেতাকর্মীরা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য দেশের সব শিৰা প্রতিষ্ঠানে আধিপত্য বিসত্মারের চেষ্টা করে। এতে একের পর এক শিৰা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হতে থাকে। এটিকেও সরকারবিরোধীরা ইসু্য হিসাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছে। পরবর্তীতে তদনত্মে পরিকল্পিতভাবে স্বাধীনতা বিরোধীদের টেন্ডার সন্ত্রাস চালানোর বিষয়টি প্রকাশ পেয়ে যায়। ছাত্রলীগ সারাদেশে সন্ত্রাস ছড়াচ্ছে এমন অভিযোগের প্রেৰিতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক পদ থেকে স্বেচ্ছায় সরে যান। এরপর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। এরপরের উপসর্গ টেন্ডার সন্ত্রাস। সরকার দলীয়রা টেন্ডারবাজি চাঁদাবাজি করছে। পরবর্তীতে সে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটে।
গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, অতীতেও যৌন উৎপীড়নের ঘটনা ঘটত। এখনও ঘটছে। শুধু ধরন পাল্টেছে মাত্র। এখন যৌন উৎপীড়করা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আগে যৌন উৎপীড়করা তাদের প্রসত্মাবে রাজি না হলে এ্যাসিড মারার মতো ঘটনা ঘটাত। এখন হত্যা পর্যনত্ম হচ্ছে। যা রীতিমতো আতঙ্কের। আকাশ সংস্কৃতির ফলে যৌন উৎপীড়নে কেউ কেউ উৎসাহিত হচ্ছে বলে মনে করা হয়। এছাড়া যৌন উত্তেজক মাদকও এৰেত্রে অনেকাংশে দায়ী। পর্নোগ্রাফির প্রসার, মোবাইল ফোনের যত্রতত্র ব্যবহার, অপসংস্কৃতির প্রসার মাদকের মধ্যে রয়েছে ইয়াবা, আইসপিল, হেরোইন, ফেনসিডিলসহ উত্তেজক ট্যাবলেট। এছাড়া শহরে ধেলাধুলার পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকা, পার্কে হাঁটাচলার পরিবেশ না থাকা, সাংস্কৃতিক কর্মকা- কমে যাওয়ায় তরম্নণ তরম্নণীদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রসত্ম হচ্ছে। আনন্দ বা বিনোদনের জন্য তারা বেছে নিচ্ছে মোবাইল ফোন, কম্পিউটার ছাড়াও আকাশ সংস্কৃতির নিষিদ্ধ দিকগুলো। মানুষ নিষিদ্ধ বিষয়ের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে থাকে। এটি মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। সুস্থ বিনোদনের অভাবে তরম্নণরা বেছে নিচ্ছে যৌন উৎপীড়নকে। যুবকরা যেসব জায়গায় সাধারণত তরম্নণীদের সমাগম বেশি হয় সেখানে অবস্থান নেয়। আর মেয়েদের উত্ত্যক্ত করতে থাকে।
তবে গোয়েন্দাদের তদনত্মে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে তরম্নণীদের উত্ত্যক্ত করার বিষয়টি ভিন্নমাত্রার বলে বেরিয়ে এসেছে। কতিপয় গোষ্ঠীর প্ররোচনায় এটিকে সরকারকে বিব্রত করার হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহারের চেষ্টা চলছে। এজন্য পরিকল্পিতভাবে যৌন উৎপীড়নের পর জনরোষের শিকার হলে সরকারী দলের নাম ভাঙ্গানো হচ্ছে। যেমনটা ঘটেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। পরিকল্পিতভাবে ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করার হয়েছে। মাদকসেবীরা মেয়েদের যৌন উৎপীড়ন করা স্বাভাবিক বিষয় হিসাবে মনে করে। যৌন উৎপীড়নের ৰেত্রে মাদক ও কর্মহীনতা বড় ধরনের কাজ করে। যৌন উৎপীড়নের শিকার হয়ে ইতোমধ্যেই অনেক তরম্নণীই আত্মহত্যা করেছে। ঘটেছে বহু অনাকাঙ্খিত ঘটনা। ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে খুন হয়েছেন চাঁপা রানী, নাটোরের শিৰক মিজানুর রহমান, রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার কাজলায় খুন হয়েছে যুবক মামুন হাওলাদার।
আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার জানান, সর্বশেষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী উত্ত্যক্ত করাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ নামধারী তিন সমর্থক ও এক ছাত্রদল ক্যাডারকে বহিষ্কার করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কতর্ৃপৰ। সেই সঙ্গে বহিষ্কৃতদের মধ্যে ৩ ছাত্রলীগ সর্মথক কোনদিনই ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত হতে পারবে না ছাত্রলীগের তরফ থেকে লিখিত আকারে জানানো হয়েছে। উত্ত্যক্তকারীদের বিরম্নদ্ধে শাহবাগ থানায় জিডি করা হয়েছে। জানা গেছে, রোকেয়া হলের এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করা ও উত্ত্যক্তে প্রতিবাদকারীদের মারধর করার ঘটনায় ৪ বখাটে ছাত্রকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১ বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত বখাটেরা হলো লোকপ্রশাসন বিভাগের ২য় বর্ষ সম্মান শ্রেণীর ছাত্র মোঃ মাহিদুল ইসলাম মাহী, দর্শন বিভাগের ২য় বর্ষ সম্মান শ্রেণীর ছাত্র রম্নবাইয়াত শাহনেওয়াজ, সোহেল রানা, অর্থনীতি বিভাগের প্রথম বর্ষ সম্মান শ্রেণীর ছাত্র আতিকুর রহমান (রনি)। তাদের কেন স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে না এই মর্মে নবেম্বরের ২৪ তারিখের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয়া হয়েছে। বহিষ্কৃতদের মধ্যে সোহেল রানা ছাত্রদলের সক্রিয় ক্যাডার। বাকি ৩ জন নিজেদের ছাত্রলীগের সমর্থক বলে দাবি করেছেন। এ ৩ সমর্থকসহ রিয়াদ মাহমুদ নামে আরেক কর্মী জীবনে কোনদিনই ছাত্রলীগের রাজনীতি করতে পারবে না বলে লিখিতভাবে ঘোষণা দিয়েছে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সংশিস্নষ্ট ইউনিট। ছাত্রলীগ জসীমউদ্দীন হল শাখা সভাপতি আব্দুর রহমান জীবন ও সাধারণ সম্পাদক কাজী এনায়েত স্বাৰরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অভিযুক্ত ছাত্রলীগের তিন সমর্থক কোনদিনই ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত হতে পারবে না বলে জানানো হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জসীমউদ্দীন হলের রম্নবাইয়াত শাহনেওয়াজের নেতৃত্বে কয়েক বখাটে রোকেয়া হলের এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করে। এ সময় ছাত্রী তার পরিচিত কয়েক ছাত্রকে ফোন করলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করেন। পরে ছাত্রলীগের জসীমউদ্দীন হলের সাধারণ সম্পাদক কাজী এনায়েত ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টির দ্রম্নত সমাধানের আশ্বাস দেন। এর দু'ঘণ্টা পর মাহিদুল ইসলাম মাহী, রম্নবাইয়াত শাহনেওয়াজ, সোহেল রানার নেতৃত্বে ২০-২৫ ক্যাডার রড চাপাতি দিয়ে টিএসসিতে ছাত্রী উত্ত্যক্তে প্রতিবাদকারী সাংবাদিক ও সাধারণ শিৰার্থীদের ওপর হামলা করে। পরে সাধারণ শিৰার্থীরা তাদের প্রতিরোধ করলে সাংবাদিকরা রৰা পায়।
যৌন উৎপীড়ন ইসু্যকে গভীরভাবে পর্যবেৰণ করছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, সরকারকে বিব্রত করতে সরকারবিরোধী গোষ্ঠীগুলো তৎপর। হালে গোষ্ঠীগুলো যৌন উৎপীড়নকে বেছে নিয়েছে। এ খাতে প্রচুর অর্থও ঢালছে তারা। যারা তরম্নণীদের উত্ত্যক্ত করে তাদের কৌশলে টার্গেট করা হচ্ছে। সে ৰেত্রে মাদকাসক্তদের টার্গেট করা হচ্ছে বেশি। ছাত্রলীগের সংস্পর্শে রয়েছে এমন মাদকাসক্তদের ডিমান্ড বেশি। তাদের পিছনে টাকা খরচ করা হচ্ছে। পরের টাকায় নেশা করে মাদকের নেশায় বিভোর হয়ে তরম্নণীদের উত্ত্যক্ত করছে। আর জনরোষে পড়লে এসব উত্ত্যক্তকারী ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করে বেঁচে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে মাদকে কারও জীবন ধ্বংস করার এই কৌশল জামায়াতী কৌশল নামে পরিচিত গোয়েন্দাদের কাছে। জামায়াত-শিবির ছাত্র রাজনীতিতে এ ধরনের অপকৌশল অবলম্বল করে থাকে। কাউকে ঘায়েল করতে না পারলে কৌশলে দলে ভিড়ে টার্গেটকৃত ব্যক্তির পিছনে টাকা খরচ করে। এরপর বশে আসামাত্রই তাকে মাদকের নেশায় ডুবিয়ে দেয়া হয়। এতেই কেলস্না ফতে। হালনাগাদ এভাবে বহু ডাকসাইটে ছাত্রনেতাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিয়েছে স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো।
No comments:
Post a Comment